বৃষ্টির ফলে ডায়রিয়ার প্রকোপ কমেছে রাজধানীতে
|
||||
|
||||
ঢাকা, এপ্রিল ১১ - বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা কমে আসায় রাজধানীতে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর’বি) তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগে দিনে নয়শ’র বেশি ডায়রিয়া রোগী এলেও বুধবার সে সংখ্যা ছয়শ’র নিচে নেমেছে।
বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং দৈনন্দিন জীবন-যাপনে বিশুদ্ধতার চর্চার অভাবে প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিলে বাংলাদেশে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা যায়।
আবহাওয়া দপ্তর বলেছে, বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগের দিন রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরের দিন ৬ এপ্রিল ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ডের পর এ তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।
মঙ্গলবার পর্যন্ত ঢাকার তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ছিল এবং বুধবার তা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
আইসিডিডিআর’বির ড. আজহারুল ইসলাম বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমরা পাঁচশ’ ১৯ জন রোগী পেয়েছি। মঙ্গলবার একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল পাঁচশ’ ৯৩ জন।”
তিনি বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে পরিবেশ ঠাণ্ডা হওয়ায় মানুষ রাস্তার পাশের খাবার ও পানি কম খাচ্ছে।
বৃষ্টির কারণে গত বছর মার্চ ও এপ্রিলে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা কম ছিল বলেও জানান তিনি।
অবশ্য এই পানি বিশেষজ্ঞ বলেন, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) পরীক্ষায় সোর্স পয়েন্টে ওয়াসার পানির বিশুদ্ধতা প্রমাণ হওয়ায় শহরের অধিবাসীদের ভূগর্ভস্থ ও উপরের ট্যাংক পরিষ্কার রাখা উচিত।
যাত্রাবাড়ী, গুলশান, বাড্ডা ও তেজগাঁওয়ের ওয়াসার পানির নমুনা পরীক্ষা করেছে আইপিএইচ। এসব এলাকায় পানিবাহিত রোগের বিস্তার রয়েছে।
ওয়াটারএইডের বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, “সমস্যা হলো সংযোগ পাইপ ও ট্যাংকে যেখানে পানি সংরক্ষণ করা হয়।”
ডায়রিয়া প্রতিরোধের জন্য ফুটানো পানি পান, রাস্তার পাশের খাবার এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত জীবন-যাপনে বিশুদ্ধতার চর্চার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে একশ’ ৬০ কোটি ডায়রিয়া রোগী পাওয়া গেছে যাদের মধ্যে দুই হাজার আটশ’ ৮৩ জন মারা যান।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন