চট্টগ্রাম, এপ্রিল ০৫- আনোয়ারার তালসরা দরবার শরিফের টাকা লুটের ঘটনা তদন্ত করতে চট্টগ্রামে যাওয়া এক বিমান কর্মকর্তার লাশ হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
স্কোয়াড্রন লিডার মামুনুর রশীদ (৪৫) নামে ওই কর্মকর্তার মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আব্দুল মান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বুধবার রাতে স্টেশন রোডের হোটেল সিলভার ইনে ওঠেছিলেন মামুন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে তার লাশ পাওয়া যায়।
র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক জিয়াউল আহসান জানান, অভিযানের নামে আনোয়ারার তালসরা দরবার শরিফ থেকে ২ কোটি ৭ হাজার টাকা লুটের অভিযোগে ১২ র্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, তাদের মধ্যে শেখ মাহামুদুল হাসান নামে বিমান বাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রয়েছেন।
মাহামুদুলের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত করতেই মঙ্গলবার চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার মামুন। মালিক পূর্বপরিচিত বলে সিলভার ইন হোটেলে ওঠেন তিনি।
“সারাদিন তার সাড়া না পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে হোটেল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে,” বলেন পুলিশ কর্মকর্তা মান্নান।
হোটেল কক্ষে মৃত বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা মামুনুর রশিদের লাশ দেখে এসে র্যাব কর্মকর্তা জিয়া জানান, বাহ্যিকভাবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।
“মামুনের হার্টের অসুখ ছিল বলে তার ছোটভাই রাসেল জানিয়েছে। হোটেল কক্ষে প্রেশার ও হার্টের রোগ সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ওষুধ পাওয়া গেছে,” বলেন তিনি।
হোটেলের নিবন্ধন খাতার তথ্য অনুযায়ী, মামুনের বাবার নাম মুজিবুর রহমান, বাড়ি রংপুর। তিনি বিমান বাহিনীর কুর্মিটোলা ঘাঁটির লিগ্যাল উইংয়ে কর্মরত ছিলেন।
র্যাব-৭ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর জিয়াউল আহসান সাংবাদিকদের জানান, বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে বিভাগীয় তদন্ত করতেই স্কোয়াড্রন লিডার মামুন চট্টগ্রাম আসেন। বুধবার পতেঙ্গায় অবস্থিত র্যাব-৭ কার্যালয়েও গিয়েছিলেন তিনি।
সিলভার ইনের মালিক আসাদুজ্জামান তার পূর্ব পরিচিত বলে মামুন ওই হোটেলে উঠেছিলেন বলে র্যাব কর্মকর্তা জানান।
স্টেশন রোডে অবস্থিত এই হোটেলের মালিকানা চার জনের। অন্য তিন জন হলেন- হাজী মকসুদুর রহমান, হাজী ফেরদৌস ও হারুণুর রশিদ চৌধুরী।
আসাদুজ্জামান জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে মামুন হোটেলের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ২০৮ নম্বর কক্ষে ওঠেন। এর কিছুক্ষণ পরে তারা হোটেল থেকে বেরিয়ে খাবার খেতে যান। পরে এসে কক্ষ পরিবর্তন করে ২১৩ নম্বরে ওঠেন মামুন।
তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ওই কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পেয়ে হোটেলের কর্মচারীরা দরজা ধাক্কা দেয়। এতেও কোন সাড়া না পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশে খবর দিই। পরে পুলিশ বিকল্প চাবি দিয়ে কক্ষের তালা খুলে লাশ উদ্ধার করে।”
বিমান বাহিনীর এ কর্মকর্তার সঙ্গে দুই বছর আগে পরিচয় হয়েছিল বলে জানান আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, মামুনকে নিয়ে দুই ব্যবসায়িক বন্ধুর সঙ্গে বুধবার রাতে স্টেডিয়াম সংলগ্ন কেজিএন নামক একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে যান তারা।
আসাদের বন্ধু মাহমুদ আলী খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা একসঙ্গে চিকেন টিক্কা ও নান খেয়েছিলাম। এরপর ফেরার সময় রাত ১১টার দিকে হোটেলের বাইরে একটি ড্রেনের সামনে মামুনুর রশিদ বমি করেন। পরে তিনি তার কক্ষে চলে যান।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের একটি দল হোটেলের ওই কক্ষে তদন্ত শেষ করার পর মামুনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সদীপ কুমার দাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
মৃত্যুর কারণ জানা গেছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা বোঝা যাবে।
২০১১ সালের ৪ নভেম্বর দরবার শরিফে ডাকাতির অভিযোগে র্যাবের সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুলফিকার আলী মজুমদারসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ মার্চ আনোয়ারা থানায় মামলা হয়। ডাকাতির অভিযোগ ওঠার ওপর ওই র্যাব কর্মকর্তাদের স্ব স্ব বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন