বৃহস্পতিবার, ৫ এপ্রিল, ২০১২

পেটের তাগিদে জেলেরা ‘মাছচোর’


পেটের তাগিদে জেলেরা ‘মাছচোর’
Thu, Apr 5th, 2012 8:52 pm BdST
 


চাঁদপুর, এপ্রিল ০৫- নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মেঘনায় অবাধে চলছে মাছ শিকার। জেলেরা বলছেন, সরকারি সহায়তা না পেয়ে তারা পেটের তাগিদে ‘চুরি’ করেই নদীতে জাল ফেলছেন।

ইলিশ সম্পদ রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দু’মাস চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে সব ধরনের মাছ ধরা ও জাল ফেলা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে জেলেদের কারাদণ্ড, জাল পুড়িয়ে দেওয়া ও ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। গত ছয় বছর ধরে এই কর্মসূচি চলছে।

নিষিদ্ধঘোষিত সময়ে মাছ শিকার করার দায়ে মার্চ মাসে ৮৭ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া গত এক মাসে প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৬২ লাখ মিটার কারেন্ট জাল আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

সরকার মাচ শিকারে নিষেধাজ্ঞার এই দুই মাসে তালিকাভুক্ত জেলেপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল ও বিভিন্ন উপকরণ সহায়তা দেওয়ার কথা বললেও জেলেরা বলছেন, অপ্রতুল সাহায্যের কারণে তাদের সামনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের কোনো বিকল্প নেই।

সদর উপজেলার হরিণা এলাকার জেলে মহরম আলী দেওয়ান (৪৫) ফারুক (৩০), মো. রাজন (২২) জানান, যে পরিমাণ চাল দেওয়া হয় তা দিয়ে সংসার চলে না।

এদের মধ্যে মহরম আলী দেওয়া বলেন, “বাধ্য হয়ে আমরা চুরি করে মাছ ধরছি। শুধু চাল দিয়ে তো সংসার চলে না; ডাল, নুনসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের লোখাপড়ার অনেক খরচ আছে।”

এ ছাড়া সব জেলে এই সহায়তা পায় না বলেও জানালেন অন্য জেলেরা।

সদর উপজেলার বহরিয়া এলাকার আ. হাফেজ বেপারী (৪০), মোহাম্মদ আলীসহ কয়েকজন জেলের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের অনেকেই চাল পাচ্ছে না। সরকারিভাবে জেলেপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তা পরিমাণে কম দেওয়া হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কার্যালয় জানায়, এবার চাঁদপুরে ২৬ হাজার ৩৩৫ জন জেলেকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ১০ হাজার, হাইমচরে ১১ হাজার, মতলব দক্ষিণে ৮৩৫ জন এবং মতলব উত্তরে সাড়ে ৪ হাজার জেলে রয়েছে।

চাঁদপুর কান্ট্রি ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, মেঘনায় মাছ শিকারের ওপর ৫০ হাজার জেলের পরিবার নির্ভরশীল। এরমধ্যে তালিকাভুক্ত ২৬ হাজার জেলেকে যে পরিমাণ চাল দেওয়া হচ্ছে তা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জেলেদের জীবন-যাপন করতে হিমশিম খেতে হয়। বাকিদের অবস্থা আরো খারাপ।

নিষিদ্ধ সময়ে জেলেরা চুরি করে মাছ ধরায় সরকারের অভয়াশ্রম কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে। অবিলম্বে কারেন্ট জালের উৎপাদন বন্ধের দাবি জানান শাহ আলম।

চাঁদপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) শেখ সালাহউদ্দীন জানান, জেলেরা গোপনে রাতে মাছ ধরে। গতবছর নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার অপরাধে ১০৯ জেলের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি হয়েছিল।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন দত্ত বলেন, “বিশাল নদী একার পক্ষে পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে।” 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন