রূপগঞ্জে ফের মোশাররফ বাহিনীর তাণ্ডব, ফাঁকা গুলি
রূপগঞ্জ প্রতিনিধিরূপগঞ্জের নাওড়া এলাকায় মোশাররফ বাহিনী ফের তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় বাহিনীর প্রধান মোশাররফ দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ মোশাররফ বাহিনীকে ধাওয়া করে ফয়সাল নামে একজনকে গ্রেফতার করে। এ সময় মোশাররফের বাড়িতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১২টি টেঁটা ও একটি রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নাওড়া এলাকার বেশির ভাগ মানুষের পেশা কৃষিকাজ। এলাকার দরিদ্র মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। জমিজমার দাম বেড়ে যাওয়ার পর থেকে এলাকার মোতালিব মিয়ার ছেলে মোশাররফ হোসেন ওরফের চোরা মোশাররফ নিরীহ মানুষের জমি দখল শুরু করে। ধীরে ধীরে সে গঠন করে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকার যুবকদের তার বাহিনীতে নিয়ে আসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে। জমি দখল থেকে শুরু করে এহেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নেই যা সে নিজ বাহিনীর মাধ্যমে করে না। এভাবে অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায় সে। তবে থেমে নেই তার কর্মকাণ্ড। নিরীহদের জমি জোরপূর্বক দখল চলছে প্রতিদিনই। এ জন্য একের পর এক চালাচ্ছে তাণ্ডব। তার অত্যাচারে এলাকার নিরীহ মানুষ দিশেহারা। এ বাহিনীর তাণ্ডবে এলাকার অনেকেই পালিয়ে অন্যত্রে চলে গেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোশাররফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় তিনটি হত্যাসহ ২৭টি মামলা রয়েছে। তবে এতগুলো মামলা থাকার পরও সে বহাল তবিয়তে এবং তাণ্ডব চালানোর পরও প্রশাসন নীরব। কারণ মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে স্থানীয় প্রশাসনকে 'ম্যানেজ' করে রেখেছে সে। এ ছাড়া মোশাররফের ওপর রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়া। ফলে কেউ তার বাহিনীর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে এলাকা ত্যাগ করতে হয় কিংবা প্রাণনাশের হুমকির মধ্যে থাকতে হয়। আবার প্রতিবাদ করলে হত্যার শিকার হওয়ার মতো নজিরও আছে। তাই এ বাহিনী নাওড়া এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক। এলাকার নিরীহ মানুষ মোশাররফ বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাবে কবে, এ প্রশ্ন স্থানীয়দের। স্থানীয়রা এ বাহিনীর ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করার সাহসটুকু পায় না। মোশাররফের একটি নির্ভর সূত্র জানায়, নদীপথে প্রচুর মাদক আসে রূপগঞ্জে। আর এ মাদকের গডফাদার মোশাররফ বাহিনীর প্রধান মোশাররফ। এসব মাদক রূপগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করে থাকে তার বাহিনীর সদস্যরা। স্থানীয়দের কয়েকজন নাম না প্রকাশ শর্তে জানান, এ বাহিনীর সঙ্গে নামমাত্র তর্ক-বিতর্ক হলেও তারা ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে। একের পর এক এ ধরনের তাণ্ডবের ফলে অনেকে ইচ্ছে করেই নাওড়া এলাকা ত্যাগ করে অন্যত্র বসবাস করেছেন। নাওড়ায় যাদের জমিজমা রয়েছে তারা থাকেন সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে। কারণ হিসেবে তারা জানান, মোশাররফ বাহিনীর প্রধান মোশাররফের চোখ ওই সব জমিতে পড়লে সে জোরপূর্বক দখলে নিয়ে নেবে। এ ছাড়া হত্যার শিকার ও হুমকির মুখে বাধ্য হয়ে কম মূল্যে তার কাছে জমি বিক্রি করতে মানুষ বাধ্য হয়। এদিকে গতকাল বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সন্ত্রাসী মোশাররফ বাহিনীর তাণ্ডবের প্রতিবেদন ছাপানোকে কেন্দ্র করে এ বাহিনী ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় মোশাররফ বাহিনীর প্রধান মোশাররফ দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তার বাহিনীকে ধাওয়া করে ফয়সাল নামে এক সদস্যকে আটক করে। এ সময় মোশাররফের বাড়িতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১২টি টেঁটা ও একটি রামদা উদ্ধার করে পুলিশ। এলাকা চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রসঙ্গত, এর আগে নাওড়া এলাকার আলেক হোসেন রাজু, মাসুদ রানা, মোক্তার হোসেন, নবী হোসেন, দুলাল মিয়া, নয়ন মিয়াসহ কয়েকজনের বাড়িঘরে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে মোশাররফ বাহিনী। এ ছাড়া আব্বাস, নাজমুলসহ অনেককে মোশাররফ গুলিবিদ্ধ করে।
খুঁটির জোর কোথায় : রূপগঞ্জের টপ টেরর মোশারফ বাহিনীর প্রধান মোশাররফের খুঁটির জোর কোথায় এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকায় নানা কথা চাউর রয়েছে। কেউ বলছে একটি আবাসন কোম্পানি তাকে প্রত্যক্ষভাবে শেল্টার দিচ্ছে। আবার কেউ বলছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণক পর্যায়ের এক ব্যক্তি তাকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে। এসব নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, মোশাররফ কি তাহলে বহাল তবিয়তেই থাকবে? তার টিকিটি কি প্রশাসন ছুঁতে পারবে না? একসময়কার ছিঁচকে চোর কীভাবে এত অপকর্ম করে প্রশাসনের নাকের ডগায় এখনো বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা জানতে চায় এলাকাবাসী।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন