বুধবার, ৪ এপ্রিল, ২০১২

তিনটি NRB ব্যাংক অনুমোদন


তিনটি এনআরবি ব্যাংক অনুমোদন

Wed, Apr 4th, 2012 5:13 pm BdST
 
ঢাকা, এপ্রিল ০৪  বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর শর্তে তিনটি এনআরবি ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে অন্য বেসরকারি ব্যাংক অনুমোদনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই জন্য বেশ কয়েকটি প্রস্তাব ছিল, যার মধ্যে সরকারি দলের কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন, বুধবারের বৈঠক মুলতবি হয়েছে, তা আগামী রোববার আবার হবে। ওই দিনই অন্য ব্যাংকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

অনুমোদিত তিনটি এনআরবি ব্যাংকের প্রস্তাবক ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইকবাল আহমেদ এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফরাসত আলী ও নিজাম চৌধুরী।

ব্যাংক তিনটির নাম হলো- এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড (উদ্যোক্তা নিজাম চৌধুরী), এনআরবি কমার্স ব্যাংক (উদ্যোক্তা ফরাসত আলী) ও এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড (উদ্যোক্তা ইকবাল আহমেদ)।

এনআরবির (অনাবাসী বাংলাদেশি) পাঁচটি প্রস্তাব থেকে এই তিনটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে ডেপুটি গভর্নর জানান।

অনুমোদিত ব্যাংকগুলোর দুটির নাম এক হওয়ায় দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরে নাম ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই তিনটি ব্যাংককে দেওয়া শর্তের বিষয়ে এ কে সুর বলেন, “ব্যাংক তিনটিকে অবশ্যই দেশে বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে।”

গভর্নর আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে বুধবারের বৈঠকে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে অর্থসচিব মোহাম্মদ তারেক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সনৎ কুমার সাহা ছিলেন না।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে থাকলেও সিদ্ধান্ত হয়নি কেন- জানতে চাইলে এস কে সুর বলেন, “এটা পরিচালনা পর্ষদের বিষয়। তবে সব প্রস্তাবেরই খুঁটিনাটি বিশ্লেষন করা হচ্ছে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি স্বীকার না করলেও নতুন ব্যাংক অনুমোদনের জন্য যে ‘রাজনৈতিক চাপ’ রয়েছে- তা জোরেসোরেই আলোচনায় এসেছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও কিছুদিন আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছা।

প্রস্তাবিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নাম রয়েছে।

প্রস্তাবিত ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নাম রয়েছে শহিদুল আলমের। উদ্যোক্তার তালিকায় আছেন গোলাম মসি, যিনি জাতীয় পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এই ব্যাংকের পেছনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নাম এসেছে পত্র-পত্রিকায়।

জনৈক হুমায়ুন কবীরের নাম চেয়ারম্যান হিসেবে দেখিয়ে মধুমতি ব্যাংকের প্রস্তাব জমা পড়েছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই প্রস্তাবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর স্বজন, সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপসের নাম এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর আয়কর উপদেষ্টা এম মনিরুজ্জামান খন্দকার মিডল্যান্ড ব্যাংকের প্রস্তাব করেছেন।

প্রস্তাবিত মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমান, আর পরিচালকের তালিকায় আছেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নসরুল হামিদ।

প্রস্তাবিত সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে এস এম আমজাদ হোসেনের নাম। এর উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতা আব্দুল মান্নান চৌধুরী।

নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন চেয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে যথাযথ প্রক্রিয়া ও শর্ত মেনে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে অফেরতযোগ্য ১০ লাখ টাকার জামানতসহ আবেদন করতে বলা হয় আগ্রহীদের।

আবেদন করার ক্ষেত্রে- ৪০০ কোটি টাকার মূলধন, একজন উদ্যোক্তার ১০ শতাংশ শেয়ারের অধিকারী হওয়া, গত ৫ বছরে খেলাপি থাকলে বা এ বিষয়ে মামলা চললে তার আবেদন বিবেচনায় না নেওয়া, পরিচালনা পর্ষদে সর্বাধিক ১৩ সদস্য রাখা, উদ্যোক্তার আয়কর বিবরণীতে প্রদর্শিত সম্পদ থেকে ব্যাংকের মূলধন সরবরাহ, উদ্যোক্তা বা পরিচালকের সততা ও যোগ্যতা যাচাইসহ বেশ কিছু কঠিন শর্ত বেঁধে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর মোট ৩৭টি আবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা পড়ে, যার মধ্যে প্রাথমিক বাছাইয়ে ১৬টি আবেদন বিবেচনার জন্য রাখা হয়।

প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ঘুরে সেই তালিকা আরো যাছাই-বাছাইয়ের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়। সেখান থেকে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।

সেই তালিকার ভিত্তিতেই নতুন ব্যাংকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন