মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল, ২০১২

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাক্ষী সাদিককে জেরা


Tue, Apr 3rd, 2012 10:52 pm BdST
 
চট্টগ্রাম, এপ্রিল ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের মামলায় সাক্ষী ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান সাদিক হাসান রুমিকে জেরা করেছেন আসামি ওই গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন পরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর আইনজীবীরা।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমানের আদালতে আসামি পক্ষের দুই আইনজীবী মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টা থেকে দেড় ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত সাদিককে জেরা করেন।

সাক্ষ্যে সাদিক বলেছিলেন, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল গভীর রাতে সিইউএফএল জেটি ঘাটে আটক ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালানের সঙ্গে রেজ্জাকুল জড়িত থাকতে পারেন বলে ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন ফিল্ড স্টাফরা জানিয়েছিলেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই এই বক্তব্য দিয়েছেন সাদিক।

তারা বলেন, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান থাকাকালে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব নিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরী ও মইন উ আহমেদের দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন রেজ্জাকুল হায়দার।

মইন উ আহমেদ বন্ধু হওয়ায় সাদিক এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রেজ্জাকুলকে জড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি তাদের।

সাবেক এনএসআই প্রধান মেজর জেনারেল রেজ্জাকুলের আইনজীবী কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ সাক্ষী সাদিকের কাছে জানতে চান, “এক-এগারো পূর্ববর্তী সময়ে হাসান মশহুদ ও মইন উ আহমদের বিরুদ্ধে রেজ্জাকুল হায়দার দুর্নীতির প্রতিবেদন দিয়েছিলেন কি?”

সাদিক ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিলে আইনজীবী পাল্টা প্রশ্নে জিজ্ঞেস করেন, “মইন উ আহমেদ আপনার কোর্সমেট হওয়ায় আপনি এতে ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং রেজ্জাকুলের বিরুদ্ধে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।”

তখন ডিজিএফআই’র তৎকালীন প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমি ‘না’ বলেন।

জেরার এক পর্যায়ে আইনজীবী সাজ্জাদ জানতে চান, “১০ ট্রাক সমপরিমাণ অস্ত্র ধরা পড়ার পূর্বে উলফানেতা পরেশ বড়–য়ার সঙ্গে তৎকালীন সেনাপ্রধান ও ডিজিএফআই প্রধানের বৈঠক হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা আছে। বিষয়টি সত্য কি না?”

উত্তরে সাদিক হাসান বলেন, বিষয়টি সত্য নয়।

বুধবার সকালেও সাদিক হাসান রুমির জেরা চলবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত পিপি অশোক কুমার দাশ।

গত ১৫ মার্চ একই আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে সাদিক বলেছিলেন, “তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের চাপেই রেজ্জাকুলকে এই সংক্রান্ত সরকারি তদন্ত কমিটিতে মনোনীত করা হয়।” 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন