ঢাকা, এপ্রিল ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নরসিংদীতে র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তের উদ্যোগ নেবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
কমিশনের চেয়্যারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বুধবার রাজধানীতে এক কর্মশালায় বলেন, “আমরা পূর্ণ কমিশনে নরসিংদীর ঘটনা নিয়ে আলোচনা করবো। আর পূর্ণ কমিশন যদি সিদ্ধান্ত দেয় এবং প্রয়োজন মনে করে তাহলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অবশ্যই ঘটনার তদন্ত করবে।”
“আমরা মনে করি, যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন- এনকাউন্টার, ক্রসফায়ার কিংবা বন্দুকযুদ্ধ- কোনভাবেই এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আইনের শাসন এবং গণতন্ত্রের প্রতি বিরাট হুমকি।”
গত সোমবার নরসিংদী সদর উপজেলায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ছয়জন। ঘটনার পর র্যাব তাদের ছিনতাইকারী বললেও নিহতদের স্বজনরা বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
সহস্রাধিক বিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত র্যাবের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বলা হয়, একটি ডাকাতি শেষে আরেকটি ডাকাতির প্রস্তুতির সময় এই বন্দুকযুদ্ধ হয়।
এ ঘটনায় র্যাব নরসিংদী সদর মডেল থানায় অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি ও সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগে তিনটি মামলা করেছে।
বুধবার সকালে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত কর্মশালায় মিজানুর বলেন, “আমরা মনে করেছিলাম, এ প্রবণতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এটি খুব আশাব্যাঞ্জক মনে হয়েছিলো। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ক্রসফায়ারের ঘটনায় আমরা শঙ্কিত হয়েছি, আমরা চিন্তিত।”
‘হিউম্যান রাইটস, পিপলস রাইট টু ল্যান্ড অ্যান্ড ফুড’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী এই কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
অবৈধভাবে ভূমি অধিগ্রহণ
কিছু আবাসন প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে ভূমি অধিগ্রহণ করছে এমন অভিযোগের কথা উল্লেখ করে মিজানুর বলেন, “আমাদের কাছে অনেকগুলো অভিযোগ এসেছে যে কিছু আবাসন প্রতিষ্ঠান অনেকের জমি অবৈধভাবে অধিগ্রহণ করেছে।”
অভিযোগ বিবেচনায় এনে বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য ইতোমধ্যে মানবাধিকার কমিশন একটি শুনানির আয়োজন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “অভিযুক্ত একটি কোম্পানি শুনানির জন্য কিছুদিন সময় চেয়েছে। সময়সীমা শেষ হলে তারা আমাদের সামনে হাজিরা দেবে। শুনানি শেষ হলে আমরা অপর পক্ষকে ডাকব। এরপর সবগুলো স্থান পরিদর্শন করে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ নিস্পত্তির ক্ষেত্রে স্থানীয় অধিবাসীদের ‘অসহযোগিতামূলক’ আচরণের অভিযোগ এনে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমিবিরোধ নিস্পত্তিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও সেখানকার লোকজনের অসহযোগিতার কারণে বিষয়টির নিস্পত্তি হচ্ছে না।”
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আরো একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা দুটি ট্রাইব্যুনাল দিয়ে দেখি কতটুকু এগোনো যায়। প্রয়োজনবোধে আরো ট্রাইব্যুনাল করা যাবে। এটা নির্ভর করছে তদন্ত সংস্থা কাদের বিরুদ্ধে তথ্য পেয়েছে এবং আরো কত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে যাচ্ছে- তার ওপর।”
একটি ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের বিচার শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে- এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকার গত মাসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। এই ট্রাইব্যুনাল গত ২৫ মার্চ কাজ শুরু করেছে।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারকাত। অন্যদের মধ্যে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শাসুল হুদা, ওয়েস্ট বেঙ্গল হিউম্যান রাইটস কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্রী নারায়ণ চন্দ্র শীল এবং ভারতের ইন্সটিটিউট ফর মটিভেটিং সেল্ফ এমপ্লয়মেন্টের (আইএমএসই) নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব হালিম বক্তব্য রাখেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন