রবিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১২

সাগরের ২ ব্লকে দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ শেষ

সাগরের ২ ব্লকে দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ শেষ
Sun, Apr 15th, 2012 8:43 pm BdST





আমিনূর রহমান রাসেল
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক

ঢাকা, এপ্রিল ১৫ - বঙ্গোপসাগরের দুটি ব্লকে কনকো-ফিলিপসের অধীনে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ (টুডি সিসমিক সার্ভে) শেষ করেছে চীনের ভূতাত্ত্বিক জরিপকারী সংস্থা বিজিপি।

বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুর রোববার এ কথা জানান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের শেষ সপ্তাহ বঙ্গোপসাগরের দুটি ব্লকে এ দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ হয়।”

বর্ডার গেটওয়ে প্রোটোকল (বিজিপি) দুই হাজার ছয়শ লাইন কিলোমিটার জরিপ চালিয়েছে জানিয়ে হোসেন মনসুর বলেন, “জরিপের উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ ও উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে তারা আগামী অক্টোবরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জানাতে পারবে বলে আশা করছি।”

“ব্লক দুইটিতে তেল-গ্যাস রয়েছে কি না তা ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বলা যাবে।”

এ জরিপের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত আটটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে পেট্রোবাংলা গত ২২ সেপ্টেম্বর অনাপত্তিপত্র দিলে চূড়ান্ত দরপত্র আহ্বান করে কনকো-ফিলিপস। এতে সর্বনিু দরদাতা হয় বিজিপি।

পেট্রোবাংলা গত ৭ ডিসেম্বর এ জরিপের জন্য চীনা এ প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে অনাপত্তি জানায়।

বিজিপি বঙ্গোপসাগরের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাসের অবস্থান নির্ণয় এবং এর বিস্তৃতিসহ প্রাথমিক মজুদের ধারণা পেতে দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ (টুডি সিসমিক সার্ভে) চালায়।

এই দুই ব্লকে তেল-গ্যাস উত্তোলনে গত ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে উৎপাদন-বণ্টন (পিএসসি) চুক্তি করে সরকার।

পিএসসি চুক্তি অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে পাঁচ হাজার একশ ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে খনিজ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সুযোগ পাবে কনকো-ফিলিপস। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ২৮০ কিলোমিটার দূরে এ দুটি ব্লকে সমুদ্রের গভীরতা এক থেকে দেড় কিলোমিটার।

নয় বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে তিন ধাপে জরিপ ও খনন কাজ চালানোর শর্তে ১৬ কোটি ডলার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দিয়েছে কনকো-ফিলিপস।

তেল-গ্যাস খনিজ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি শুরু থেকেই কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে করা এই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিলো। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এর প্রতিবাদে রাজধানীতে অর্ধদিবস হরতালও পালন করে তারা।

তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির দাবি, কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০ শতাংশ গ্যাস পাবে। বাকি ৮০ শতাংশ গ্যাস নির্দিষ্ট দরে কিনে নিতে হবে। বাংলাদেশ ওই গ্যাস কিনতে না পারলে কনকো-ফিলিপস তা রপ্তানি করতে পারবে।

দেশে প্রতিদিন দুইশ’ ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের পরিমাণ দুইশ’ কোটি ঘটফুট। সে হিসেবে ঘাটতি থাকছে ৫০ কোটি ঘনফুট।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন