রবিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১২

স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ কোটি ডলার অনুদান

স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ কোটি ডলার অনুদান
Mon, Apr 9th, 2012 11:23 pm BdST



 ঢাকা, এপ্রিল ০৯ - স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান পাঁচ বছর মেয়াদী স্বাস্থ্যখাত উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহায়তায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বহুজাতিক উন্নয়ন সহযোগী তহবিলে যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে চার কোটি ডলারের অনুদান স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র।

এ ঘটনাকে ‘ইতিহাস সৃষ্টি’ হিসাবে অভিহিত করে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, “বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে অনুদান চুক্তি হচ্ছে যার মাধ্যমে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে একই তহবিলে অর্থ সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।”

সাতশ’ ৬০ কোটি ডলারের ২০১১-১৬ মেয়াদি স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাতে উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এইচপিএনএসডিপি) যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) মাধ্যমে এই অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

নতুন এই উদ্যোগকে ‘শুভ পরিবর্তন’ হিসাবেও অভিহিত করেন মজিনা।

তিনি বলেন, “এটা আমাদের বাংলাদেশ সরকার, সুশীল সমাজ ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আরো ভালো ও কার্যকর সমন্বয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে।”

তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ওবামার ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ’র অংশ হিসেবে এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ইউএসএআইডি’র মাধ্যমে বাংলাদেশকে পাঁচশ’ ৮০ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র যার মধ্যে শুধু স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে দিয়েছে ৭৭ কোটি ডলার।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেন, “স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে এই অর্থ।”

ইউএসএআইডি’র বাংলাদেশ মিশন পরিচালক রিচার্ড গ্রিন বলেন, “ভবিষ্যৎ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে একত্রিত হওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”

এ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও ইউএসএআইডিকে অভিনন্দন জানান বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি এলেন গোল্ডস্টেইন।

তিনি বলেন, “আমি আনন্দিত যে, এই সমন্বিত তহবিল পরিচালনা করে বিশ্ব ব্যাংক এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।”

সাতশ’ ৬০ কোটি ডলারের পাঁচ বছরের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাতে উন্নয়ন কর্মসূচিতে সরকার ৭৫ শতাংশ সম্পদের যোগান দেবে। আর বাকি অর্থ দেবে উন্নয়ন সহযোগীরা।

বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সমন্বিত এই তহবিলে বর্তমানে ৪৩ কোটি ডলার হয়েছে। এখানে যুক্তরাজ্য, সুইডেন, বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান রয়েছে।

ধারণা করা হয় অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও কানাডা এই সমন্বিত তহবিলে বাকি অর্থ সরবরাহ করবে।

এর আগে ১৯৯৮ সালের জুলাই থেকে ২০০৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রথম স্বাস্থ্য খাত উন্নয়ন কর্মসূচি- স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা খাত কর্মসূচি (এইচপিএসপি) বাস্তবায়ন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

দ্বিতীয় কর্মসূচি- স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাত কর্মসূচি (এইচএনপিএসপি) বাস্তবায়ন হয় ২০০৩ সালের জুন থেকে ২০১১ সাল মেয়াদে। আর বর্তমান কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয় গত ১ জুলাই থেকে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন