| ||||||||||
গত কয়েক দিনে বিভিন্ন সংবাদপত্রে ডেসটিনি গ্রুপের ‘অবৈধ ব্যাংকিং’ নিয়ে খবর প্রকাশের মধ্যেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “এ রকম প্রতিষ্ঠান যাতে তাদের সম্পদ ট্রান্সফার করতে না পারে সেজন্য যুবকের মতো একটি কমিশন গঠন করা হবে।” বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ইতোমধ্যে ডেসটিনিসহ এমএলএম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে এসব কোম্পানির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদনবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাংকের মতো লেনদেন না করার জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে ১ এপ্রিল। নির্দেশনায় বলা হয়, “এ ধরনের প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক উচ্চ হারে সুদ ও আকর্ষণীয় মুনাফার লোভ দেখিয়ে জনসাধারণ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে।” এ বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, “দেশের বাইরে থাকায় ডেসটিনি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রতিবেদন আমি দেখতে পারিনি। আজ দেশে ফেরার পর আমি সেগুলো দেখেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, এট বিরুদ্ধে (ডেসটিনি) যুবকের মতোই অ্যাকশন নিতে হবে। আমরা (সরকার) সে ব্যবস্থাই নেব।” গত কয়েকদিনে ডেসটিনির অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে ‘বড় বড়’ খবর এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা বিচলিত।” অর্থমন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালণয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ডেসটিনির বিষয়ে কমিশন গঠনের জন্য ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে বলেও জানান মুহিত। তিনি বলেন, “যুবকের সম্পদ জব্দ করায় তারা সব সম্পদ পাচার করতে পারেনি। সেই অর্থ থেকে গ্রহাকদের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দেওয়া যাবে। ঠিক একইভাবে ডেসটিনির ক্ষেত্রেও একটি কমিশন করা হবে।” গত বছরের ৬ মার্চ তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান সংসদে জানান, দেশে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা ৬২। এ ব্যবসাকে নীতিমালার আওতায় আনতে আইন প্রণয়ন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এমএলএম কোম্পানির নামগুলো তুলে ধরে তখন ফারুক খান জানিয়েছিলেন, ডেসটিনি-২০০০ এর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪৫ লাখ। অন্যান্য কোম্পানির প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা কিংবা সর্বমোট গ্রাহক সংখ্যা কম। ২০১০ সালের শেষ দিকে ইউনিপেটুইউ নামের আরেকটি এমএলএম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠলে ওই প্রতিষ্ঠনের বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নামে। এরপর এমএলএম ব্যবসাকে একটি নীতিমালার মধ্যে আনতে আইন করার উদ্যোগ নেয় সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ আইনের যে খসড়াটি তৈরি করেছে বেশ কয়েকবার তা মন্ত্রিসভায় ওঠার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ওঠেনি। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, খসড়া আইনে একটি পরিদপ্তর করার কথা বলা হয়েছে। সেটি পরিচালনার জন্য বেশ কিছু জনবল নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জনবলের ব্যাপারে সম্মতি দিচ্ছে না। এ কারণেই আইনটি মন্ত্রিসভার উঠছে না। ৬ বছরেও টাকা পাননি যুবকের গ্রাহকরা অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি (যুবক) বন্ধ হয়ে যাওয়ার ছয় বছর পরও বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাননি প্রতারিত গ্রাহকরা। ডেসটিনির বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ওঠায় যুবকের গ্রাহকদের পাওনার বিষয়টিও ফের আলোচনায় এসেছে। ২০০৫ সালে এক তদন্তে যুবকের অবৈধ ব্যাংকিং কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০০৬ সালের মার্চের মধ্যে যুবক কর্তৃপক্ষকে তাদের সব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং প্রতারিত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে বলে। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তা না হওয়ায় যুবকের সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয় সরকার। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুবকের সার্বিক অবস্থা তদন্ত এবং যুবক গ্রাহকদের অর্থ কীভাবে ফেরত দেওয়া যায় তা নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে একটি কমিশন গঠন করা হয়। কমিটি যুবকের সব সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করে। একইসঙ্গে গ্রাহকদের অর্থ সুষ্ঠুভাবে ফেরত দেওয়ার জন্য একটি স্থায়ী কমিশন গঠনরেও পরামর্শ দেয়। ওই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সাবেক যুগ্ম সচিব রফিকুল ইসলাকে চেয়ারম্যানকে করে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করে সরকার। তবে এখনও যুবকের কোনো গ্রাহককে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। সপ্তাহ দুয়েক আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ডেসটিনির বিষয়েও একটি তদন্ত প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠায়। ওই প্রতিবেদনে ডেসটিনির বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যাংকিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ক্যামডেন মেয়রের বৈঠক ডেসটিনি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে অর্থমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের ক্যামডেনের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেয়র আদ্দুল কাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন কাদির। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “টিপাইমুখে ভারতের বাঁধ নির্মাণ নিয়ে সরকারের সর্বশেষ অবস্থান কি- সে বিষয়ে আমি অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছি। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাতরত বাংলাদেশিরা টিপাইমুখে বাঁধ নিয়ে হতশার মধ্যে আছেন।” কাদির জানান, বাংলাদেশের ক্ষতি হবে- এমন কোনো কিছু হবে না বলে অর্থমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন। “তার কথায় আমরা খুশি হয়েছি”, বলেন মেয়র। সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে কাদির জানান। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আগে সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট ছিল। কিছু সমস্যার কারণে এখন তা বন্ধ আছে। দেখা যাক, আবার এটা চালু করা যায় কি না।” | ||||||||||
শনিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১২
ডেসটিনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আসছে
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন