বুধবার, ৪ এপ্রিল, ২০১২

বিশ্ব ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞাই পদ্মায় দুর্নীতির প্রমাণ’




‘বিশ্ব ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞাই পদ্মায় দুর্নীতির প্রমাণ’


Wed, Apr 4th, 2012 6:01 pm BdST
 
ঢাকা, এপ্রিল ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের ওপর বিশ্ব ব্যাংকের সাময়িক নিষেধাজ্ঞাই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে বলে দাবি করেছে বিএনপি।

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের প্রতিষ্ঠান সাকো ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে এসএনসি-লাভালিনের যোগাযোগ রয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান বুধবার বলেন, “দেরিতে হলেও গতকাল [মঙ্গলবার] খবর প্রকাশ হয়েছে, কানাডীয় ওই প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিশ্ব ব্যাংক সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

“এই নিষেধাজ্ঞাই প্রমাণ করে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে।”

“আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও যোগাযোগমন্ত্রী এখন এর কী জবাব দেবেন,” যোগ করেন বিএনপিনেতা নোমান।

পাশাপাশি মালয়শিয়ার বিনিয়োগে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় কত ধরা হয়েছে তা জনসমক্ষে প্রকাশেরও দাবি জানান তিনি।

বুধবার নোমান কথা বলছিলেন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায়।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে কানাডীয় প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ওপর বিশ্ব ব্যাংক সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয় মঙ্গলবার।

তবে প্রতিষ্ঠানটি এও বলেছে, এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞাই শেষ কথা নয়, বিশ্ব ব্যাংক তদন্ত শেষ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।

এসএনসি-লাভালিন সংশ্লিষ্ট ‘দুর্নীতির’ অভিযোগে গত সেপ্টেম্বরে বিশ্ব ব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থায়ন স্থগিত করে।

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন স্থগিত ঘোষণার পর বিএনপি দাবি করে আসছে, বর্তমান সরকারের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীর ‘দুর্নীতির’ কারণে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন স্থগিত করেছে।

২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ কে পাবে তা চূড়ান্ত না হলেও এর তদারকির দায়িত্ব পেতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকায় এসএনসির নাম রয়েছে।

‘দুর্নীতি’র অভিযোগের কয়েক মাস পর সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেয় সরকার।

প্রকল্পে সবচেয়ে বড় অংকের ঋণ দেওয়ার কথা বিশ্ব ব্যাংকের যার পরিমাণ ১২০ কোটি ডলার। এছাড়া এডিবি ৬১ কোটি, জাইকা ৪০ কোটি এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার জন্য চুক্তি করলেও বিশ্ব ব্যাংকের ঘোষণার পর তাদের অর্থায়নও ঝুলে যায়।

এ অবস্থায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এ নির্মাণ প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করে মালয়শিয়া। প্রকল্পে বিনিয়োগ প্রস্তাব ইতিমধ্যে মালয়শিয়ার মন্ত্রিসভা অনুমোদনও করেছে। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন