ঢাকা, মার্চ ২০ - ওয়াইম্যাক্স কোম্পানি কিউবির ছয় বিদেশি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মহানগর হাকিম শাহাদাৎ হোসেন তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।
জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঠকানোর অভিযোগে দুটি মামলায় গত ২০ মার্চ কোম্পানিটির সাত বিদেশি কর্মকর্তাসহ আটজনকে বৃহস্পতিবার হাজির হতে বলে আদালত।
বাদীর আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসের আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সমন জারি সত্ত্বেও ছয় আসামি বৃহস্পতিবার হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
তারা হলেন, কিউবির চেয়ারম্যান সঞ্জিব আহুজা, পরিচালক ডেমিয়েন রিড, মার্টিন হ্যারিম্যান, পল গ্রেগরি ফ্রাঙ্কলিন, স্টিফেন জেরার্ড অলিভ ও ইমরান হোসেইন।
অপর দুই আসামি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেরি মবস ও কোম্পানি সচিব ফয়সাল হায়দার হাই কোর্ট থেকে গত ২১ মার্চ জামিন নিয়েছেন।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এই ছয় জন দেশের বাইরে থাকায় সমন পাননি। এ কারণে আদালতেও হাজির হননি।
তবে বাদী পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, তারা সত্য গোপন করছেন। ওই ছয় আসামি দেশেই আছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হোক।
পরে আদালত ছয় বিদেশির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
কোম্পানি আইনে করা মামলা দুটির মধ্যে একটির আর্জিতে বলা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে আইন ভঙ্গ করে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে মিথ্য তথ্য দিয়েছেন।
অপর মামলার অভিযোগ, আসামিরা ২০০৯ সালের ব্যালেন্স শিট এবং লাভক্ষতির হিসাব অনুমোদন না করিয়েই তা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে দাখিল করেছেন, যা কোম্পানি আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। ২০০৮ সালে বিটিআরসির কাছ থেকে অয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স পাওয়ার পরের বছর ঢাকায় কার্যক্রম শুরু করে কিউবি।
নেদারল্যান্ডসের অজের হোল্ডিংসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিউবি বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তানে ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। বিশ্বখ্যত টেলিকম কোম্পানি অরেঞ্জের সাবেক প্রধান নির্বাহী সঞ্জিব আহুজা অজেরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও অংশীদার।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির হিসাবে বাংলাদেশে বর্তমানে এক লাখ ৮৮ হাজার ২২০ জন গ্রাহক ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। তবে এর মধ্যে কিউবির গ্রাহক কতো- তা বিটিআরসির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়নি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন